এবারের স্বাধীনতা দিবসে লাখো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে শুরুতেই একটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল, আমরা সবাই সেটা জানি। জটিলতাটি এসেছিলো ইসলামী ব্যাংকের অনুদান নিয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো যে কুলাঙ্গারেরা তাদের সমর্থনপুষ্ঠ এই ব্যাংক কী করেছে সেটি তো কারো অজানা নেই! এই মূহুর্তে যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ চলছে, সেই বিচার কাজকে থামানোর জন্যে দেশে-বিদেশে যে লবিস্ট লাগানো হয়েছে তাদেরকেও টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করছে এই ব্যাংক- আমাদের কাছে সে রকম গুরুতর অভিযোগ আছে।
জামাতে ইসলামী নামে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যে দলটি আছে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে টাকা পয়সা আর ব্যবসা বাণিজ্য, এই ব্যাংটি দিয়েই সেই টাকা পয়সা ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই ব্যাংকটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য টাকা দেবে আর সেই টাকায় আমরা ‘আমার সোনার বাংলা’ গাইব এটি যে কতো উৎকট একটি রসিকতা সেটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার জানে না সেটা বিশ্বাস করা কঠিন! কিন্তু সেটাই ঘটে গিয়েছিল।
এই দেশের তরুণেরা প্রথমে এর বিরোধিতা করে সোচ্চার হয়েছিল, তারপর অন্যেরা। এই দেশের মানুষের প্রচণ্ড চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের টাকাটা তারা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ব্যবহার করবে না। এইটুকু হচ্ছে ভূমিকা। আমি এর পরের কথাটা বলার জন্যে এই ভূমিকাটুকু করেছি।
সরকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংকের টাকা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ব্যবহার করা না হলেও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ব্যবহার করা হবে! সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে এই দেশের তরুণ ছেলে মেয়েরা ইসলামী ব্যাংকের সাথে দুর্ব্যবহার করে ফেলেছে, ইসলামী ব্যাংক যেন সেই দুর্ব্যবহারে মনে কষ্ট না পায় সেজন্যে যেভাবে হোক সরকারের তাদেরকে যথোপযুক্ত সম্মান দেখাতে হবে!
তাই তাদের টাকাটা বাংলাদেশের আয়োজিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যবহার করা হবে। বেশ কিছুদিন আগে যখন হলমার্ক চার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছিল তখন আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন এটা এমন কিছু বেশি টাকা নয়!(শুনে আমি চমৎকৃত হয়েছিলাম টাকা চুরি করার টার্গেট হিসেবে কতো টাকা রাখা যেতে পারে সেখানে এটা একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছিল!) যদি চুরি করার জন্যেই হাজার কোটি টাকা খুব বেশি না হয় তাহলে ইসলামী ব্যাংকের মাত্র কয়েক কোটি টাকা কেন আমাদের দেশের জাতীয় একটা অনুষ্ঠানে নিতেই হবে? দেশের মানুষের রক্তমাখা টাকা তাদের ফিরিয়ে দিলে কী হত?
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে জানতে হবে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা আর সহমর্মিতা এই দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে হতাশ করেছে-আমাকেও হতাশ করেছে।
-

No comments:
Post a Comment