আজকে এক লোকের সাথে তর্ক হচ্ছিল- মীর কাশেমের ফাসী চাননা আপনে
- উনি একজন শিল্পপতি। ভদ্রলোক
- সে রাজাকার - অসম্ভব।
এটা চক্রান্ত করে তাকে ফাসানো হয়েছে খুব কষ্ট লেগেছিল একজন বাঙ্গালীর মুখে রাজাকারের প্রশংসা শুনে।
বাদ দেন কিছু ঘটনা বলি মানিকগঞ্জের সরকারি কর্মচারী বাবার মেঝ ছেলে ছিল মীর কাশেম ,ডাকনাম পিয়ারু। আবার মিন্টুও ডাকত।
যুদ্ধের আগে বাবার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে চলে আসে। চট্টগ্রামে কলেজে থাকতেই জামায়াতের রাজনিতীর সাথে যুক্ত কাশের একাত্তরে চট্টগ্রামের রাজাকার বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হয়। শুরু হয় এক নরপশুর তান্ডবলীলা একাত্তরে যুদ্ধ শুরুর পর চট্টগ্রামের হারুনুর রশীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। দু চোখে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। থাকত আন্দরকিল্লায়। তার সে বাসায় একটা বিরাট চুলায় দুই বেলা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খিচুরী রান্না হত। নিজের হাতে পরিস্কার করে তেল আর গ্রিজ মাখিয়ে রাইফেলগুলাকে চালু রাখতেন। মুক্তিবাহিনীর বিচ্ছুরা তাকে সম্মান করে ডাকত হারুন ভাই। একদিন চায়ের দোকান থেকে হারুনকে রশীদ কে ধরে নিয়ে যায় মীর কাশেম সহ চার পাচজন। মীর কাশেমের টর্চার সেল ছিল ডালিম হোটেল। ডালিম হোটেলে আটকে রেখে তিন চার দিন অমানুষিক নির্যাত ন করা হয় হারুনুর রশীদকে।
শর্ত দেয়া হয় মুক্তিবাহিনীর তথ্য ফাস করে দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু এটা বাঙ্গালীর পোলা। ভাংবে তবু মচকাবে না। শেষে না পেরে মীর কাশেম চিমটা দিয়ে টেনে হারুনুর রশীদের চোখ তুলে ফেলে। বাকি জীবন হারুনুর রশীদকে অন্ধ হয়ে কাটাতে হয়েছিল একাত্তরের ২৮ শে নভেম্বর্। পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিন। যে দিন শান্তি আর আনন্দের দিন।
সকালে ক্যাম্পের বুয়ার বানানো সেমাই খেয়ে একটু ঘুরতে বের হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা জসিমদ্দিন। কিন্তু রাজাকারদের আবার ঈদ। জসিম কে ধরে হোটেম ডালিমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইট দিয়ে পা হাটু ছেচে দেয়া হয়। অন্ডকোষ টেনে ছিড়ে ফেলে মাথা ছেচে ঘিলু বের করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা জসিমের্। লাশটা কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে মীর কাশেম নাকি বলেছিল ,এটা ঈদের দিনে তার তরফ থেকে আল্লাহর কাছে নজরানা পাহাড়তলীর ওসমান মাস্টার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করতেন। একটু বেশিই সাহসী ছিলেন। পাকিদের সামনে দাড়াইয়া বুক চিতাইয়া বলতেন ,শালার আমিও বাঙ্গালী। কাফনের কাপড় বাইন্ধা যুদ্ধে নামছি দেশ স্বাধীন কইরাই ঘরে ফিরমু। একমাত্র কন্যা সালমা বাবার আদরের ধন ছিল। প্রচন্ড সুন্দরী।
একদিন মীর কাশেমের লোকেরা ঘর থেকে ওসমান মাস্টারের মেয়ে সালমা কে তুলে নিয়ে যায়। গন্তব্য সেই ডালিম হোটেল। শোনা যায় ওসমান মাস্টার নাকি গড়িয়ে গড়িয়ে কেদেছিল মীর কাশেমের সামনে। পাত্তাই দেয়নি জানোয়ার্। ১৬ ডিসেম্বর ডালিম হোটেলের সামনের রাস্তায় এক ছেড়া ফাটা পোশাকের আউলা ঝাউলা চুলের পাগলিনী কে হেটে যেতে দেখা যায়। বির বির করে বলছিল,আব্বা আব্বা আব্বা ...ওসমান মাস্টারের মেয়ে সালমা ছিল।
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগলিনী সালমা... সে মীর কাশেম আজ নাকি বিশিষ্ট শিল্পপতি। ইসলামি ব্যাংকসব শত শত কোটি টাকার মালিক। ভদ্দরনোক ,দান সওগাত করে। কিসের শিল্পপতি কিসের ভদ্দরলোক বহু হিসাব বাকি আছে। হারুনুর রশীদের উপড়ে ফেলা চোখের হিসাব, মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনের থেতলানো মাথার মগজের হিসাব, পাগলিনী সালমার ইজ্জতের হিসাব। ইটস পে ব্যাক টাইম। খুনের বদলে খুন চাই ,ব্লাড ফর ব্লাড। স্বাধীনতার ডাক এসেছে সব সাথীদের খবর দে, মীর কাশেমের গলা চাইপা,ফাসীর দড়ি পড়ায় দে
- ওয়ারিশ আজাদ নাফি
No comments:
Post a Comment